বিমানবন্দর ঘিরে বসছে শতাধিক সিসি ক্যামেরা


ঢাকাঃ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আসা যাত্রীদের ঘিরে অন্তত শতাধিক অপরাধী চক্র সক্রিয়।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীদের টার্গেট করে প্রতারণা-ছিনতাই, ডাকাতি ও লুটের মতো ঘটনা প্রতিদিনই ঘটছে। অথচ বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব সংস্থার নজরদারী রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, বিমানবন্দরের যাত্রী ঘিরে অন্তত শতাধিক চক্র সক্রিয় রয়েছে। সব সংস্থারই আলাদা আলাদা টিম যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে কাজ করে। কিন্তু অপরাধীরা নানা কৌশল অবলম্বন করে কাজ করে।
এ ছাড়া তারা তাদের সুবিধাজনক স্থান ছাড়া ডাকাতি ছিনতাই করে না। আর সব জায়গায় বিভিন্ন পুলিশ, র্যাব, গোয়েন্দা থাকে না। তাই বিমানবন্দর ও আশপাশের পুরো এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে। আগেও যেসব ক্যামেরা ছিল তার পাশাপাশি নতুন আরও শতাধিক ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে।
বিমানবন্দর থানা সূত্র জানিয়েছে, কাওলা থেকে উত্তরার ‘জসিম উদ্দিন মোড়’ পর্যন্ত পুরো এলাকাকে সিসিটিভি’র আওতায় আনা হচ্ছে। ২৫টির মতো ক্যামেরা থার্ড টার্মিনালের সামনে থেকে গোলচত্বর মোড় পর্যন্ত কাজ করছে। এর বাইরে ক্রাউন প্লাজা থেকে শুরু করে জসিম উদ্দিন পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে, অর্থাৎ বিমানবন্দরের স্টেশনের সামনে থেকে রেললাইন পার হয়ে হজ ক্যাম্প পর্যন্ত পুরো এলাকাকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক আহমেদ বেগ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, পুলিশের পাশাপাশি বেবিচক, সিটি করপোরেশন, ক্রাউন গ্রুপসহ বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে সিসি ক্যামেরা লাগানোর কাজ চলছে।
আমাদের টহল নজরদারির পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা থাকলেও কোথায় কি ঘটছে সেটি আমরা থানায় বসে দেখতে পারবো। অত্যাধুনিক ক্যামেরার কারণে সেগুলোর ফুটেজও খুব পরিষ্কার হয়। সহজেই অপরাধীদের শনাক্ত করতে পারবো।
তিনি বলেন, আমাদের নিয়মিত অভিযান চলমান আছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু অপরাধী গ্রেপ্তার হয়েছে। আবার অনেকে জামিনে বের হয়ে আবার একই কাজ করছে। আমরা তাদের ধরার চেষ্টা করছি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্রবাসীদের নিরাপত্তা। এখানে যে অপরাধ করবে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাকেই আইনের আওতায় আনা হবে। এক্ষেত্রে কারও রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় আনা হবে না।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইলিয়াস কবির বলেন, আমাদের একটা টিম কাজ করে। কিন্তু ওরা খুব চালাক। কখন কোন জায়গায় করে সেটা বোঝা যায় না। বিমানবন্দরের আশপাশে করে না। আর যারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তাদের অনেকেই থানায় অভিযোগ দেন না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আমাদের টিম কাজ করে। এর আগেও আমরা অনেককে শাস্তির আওতায় এনেছি।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নেয়ামুল হালিম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এ ধরনের অনেক অভিযোগ আমরা পাচ্ছি। আমরা ব্যবস্থাও নিচ্ছি । কিন্তু সমস্যা হলো- ওরা খুব কৌশলে কাজ করে। আমাদের যারা ওই এলাকায় দায়িত্ব পালন করে তাদের চেহারা পরিচিত হয়ে গেছে। সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করলেও তারা আমাদের চিনে। তাই আমাদের উপস্থিতি টের পেলে তারা সতর্ক হয়ে যায়। আর একটু সরলে তারা আবার অপকর্ম করে।
তিনি বলেন, একবারে নিরীহ মধ্যপ্রাচ্যর যাত্রীদের সঙ্গে তারা এসব করে। একেক যাত্রীর সঙ্গে একেকভাবে প্রতারণা করে।










